মুজাহিদুল ইসলাম
আল্লাহ পাক আমাদের উপর গজব দিতে চাচ্ছিলেন না কিন্ত এবার দিবেন। একটা ছেলে বাহ্যিকভাবে ছেলে কিন্ত মানসিকভাবে মেয়ে।
মনে রাখবেন, ট্রান্সজেন্ডার ছেলে/মেয়ে এবং হিজরার সমস্যা এক নয়। হিজরার সমস্যা জন্মগত সমস্যা। এটার বিধান ইসলামে আছে, কুরআন-সুন্নাহতে এর বিধান আছে। আয়শা রা. এর কাছেও একজন হিজরা এসেছিল। নবী সা. তাকে বলেছিলেন, তার মধ্যে যদি পুরুষের স্বভাব বেশি থেকে থাকে, তাহলে কার কাছ থেকেও আমাদের পর্দা করতে হবে। অর্থাৎ, হিজরার মধ্যে যদি পুরুষের স্বভাব বেশি থেকে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকেও মহিলাদের পর্দা করতে হবে। এমন ভাবার সুযোগ নেই যে, সে তো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পর্দা করার দরকার নাই। হিজরার সমস্যাটা ইসলামে আছে, সমাধানও দেয়া আছে।
ট্রান্সজেন্ডার এমন কি সমস্যা? একজন লোক বলতেছে, আমি শারীরিকভাবে পুরুষ কিন্ত মানসিকভাবে মহিলা। একটা মানুষের যদি শারীরিক গঠন পুরুষের হয় আর মানসিকতা যদি মেয়েদের হয়, তাহলে চিকিৎসাতো করতে হবে মানসিক সমস্যার। তাকে মানসিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষ বানাতে হবে। এটা হলো ইসলাম সম্মত ট্রিটমেন্ট। আর এক দল লোক কি করছে? তারা পুরুষের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে, পুরুষের অন্ডকোষ কেটে ফেলে সার্জারীর মাধ্যমে মেয়ে হচ্ছে এবং বুকের মধ্যে/স্তনের মধ্যে সার্জারী করে মেয়ে হচ্ছে। এরাই হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার।
এরা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৃষ্টিকে বিকৃত করছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর যুগে এমন ছিল না। তাই তিনি একথা বলতে পারেন নাই। কিন্ত তিনি বলেছেন, ভ্রু-প্লাক করলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে, দাঁত শান করে উপড়ে ফেললে এর অন্তর্ভুক্ত হবে, শরীরে ট্যাটু/স্টিকার আঁকলে অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ পাক স্বাভাবিক যা দিয়েছেন তার থেকে যদি অস্বাভাবিক পরিবর্তন করতে চায় সৃষ্টিকে, তাহলে এর অন্তভুক্ত হবে। তবে, যেসব ক্ষেত্রে ইসলাম অনুমোদন দিয়েছে ঐ ক্ষেত্রে জায়েয। যেমন, ছাগলকে খাসি করা হয়। এগুলো সাহাবীদের যুগেও ছিল, এখনও আছে, ইসলামে অনুমোদনও দেয়া আছে। চাইলেই করতে পারে। কিন্ত একটা আদম সন্তানকে আপনি পরিবর্তন করে দিবেন, উৎসাহিত করবেন, এটা নিয়ে বই লেখা হবে, প্রমোট করা হবে! আমরা কোন যুগে চলে আসলাম।
আজ থেকে ৩০ বছর আগেও একটা ছেলে যদি আরেকটা ছেলের দিকে আকৃষ্ট হতো, এটাকে মানসিক রোগ বলা হতো। এখন এটাকে জায়েয করে দেয়া হচ্ছে। দেখা যায়, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫-৬ জন সমকামী। সোস্যাল মিডিয়াতে এগুলো দেখলে চোখ কপালে উঠে যায়। আগে যেমন পতিতালয়ের জন্য ছেলেপেলে গুলো ওখানে গিয়ে রাত কাটাতো। তারপর ওদেরকে বাসায় নিয়ে আসা শুরু হলো। এটাও কয়েকদিন আগের নোংরা যুগ। এখন কি হয়? একটা ছেলে আরেকটা ছেলেকে ভাড়া করে বাসায় নিয়ে যায়। নাউজুবিল্লাহ।
আমরা আল্লাহ পাকের গজব টেনে নিয়ে আসছি। আল্লাহ আমাদেরকে গজব দিতে চান না, কিন্ত এবার দিবেই, ইনশাল্লাহ। আগে চিঠি লিখতো গোপনে গোপনে, লজ্জা শরম ছিল। রিক্সায় করে যাওয়া যাবেনা, কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে। তারপর এমন জেনারেশন আসলো, সবকিছু ওপেন। ওদের আলাপই শুরু হয় হ্যান্ডশেক থেকে এবং ০৭ দিনের মধ্যেই বেডে যাওয়া শেষ। এভাবে একটার পর একটা পরিবর্তন করতে থাকে।
এরপর আসলো, সিরিয়ালের যুগ। এটা এসে শিখালো, বাসায় স্বামী থাকলেই চলবেনা, বাসার বাইরেও একজন স্বামী লাগবে। বাসায় মেয়ে থাকলেই যথেষ্ট না, আরেকটা বউ বাইরে লাগবে। এটা শুরু হলো, এখন এটা কমন হয়ে গেল।
নবী কারিম সা. বলেছেন, “আল্লাহর পরে যদি আমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করতাম, আমি মেয়েদেরকে বলতাম তারা যেন স্বামীদেরকে সেজদা করে।”
এখন তো আমরা সবাই সেক্যুলার তসলিমা নাসরিনের ফ্যােন হয়ে আছি। ওরা আমাদেরকে ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়েছে। সবক্ষেত্রে সমান অধিকারের কথা আপনাকে কে বলেছে? কোনো কোনো ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আপনি খুঁজছেন সমান অধিকার আর ইসলাম দিয়েছে অগ্রাধিকার। কত বোকা আমরা?
প্রতিটি ঘরে ঘরে সমস্যা চলছে। এত আনগত্যহীনতা কেন আমাদের? কথা শুনতে হবে, মানতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে, সম্পর্ক
শুধু ভালোবাসা দিয়ে টিকে থাকেনা। সম্পর্ক টিকে থাকে একে অপরের বিশ্বাসের ফলে, একে অপরের শ্রদ্ধাবোধের উপরে, একে অপরের সম্মান ও বোধশক্তির উপরে। এগুলোর উপর সম্পর্ক টিকে থাকে। সৌন্দর্য, ভালোবাসা তো আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। বিশ্বাস, দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য্য এগুলোর উপর সম্পর্ক টিকে থাকে। তখন ভালোবাসাগুলো লম্বা হয়। দেখবেন, এখনো এমন অনেক চাচা-চাচীরা আছেন, যাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বয়স ৪০ বছর। এখন পর্যন্ত কোনোদিন ঝগড়া লাগেনি। রে