বিশ্ব ঘুম দিবস নিয়ে আমি শুরুতে আগ্রহী হই নাই। কিন্তু ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন এর উদ্দেশ্য ও উদ্যোগ জেনে আমি এই দিবসের বিষয়ে উৎসাহী হলাম।
আপাতভাবে মনে হতে পারে যে, ১৯ মার্চ যেহেতু বিশ্ব ঘুম দিবস, তার মানে এই রাতে বেশী করে ঘুমাতে হবে। এই দিবস নিয়ে অনেক কমেডি, ট্রল, কবিতা হয়েছে। আরো হচ্ছে।
‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন’ ২০০৮ সাল থেকে মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার এই দিবসকে পালন করে আসছে। এই দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়ে মানুষকে অবগত করা। এবারের ঘুম দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নিয়মিত ঘুম: স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’।
.
যাঁদের রাতে ঘুমের সমস্যা আছে, কিংবা বদ অভ্যাসের কারনে রাত জাগেন তাঁদের স্বাভাবিক চিন্তা চেতনা ব্যহত হতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার অভাব দেখা দেয়। তাঁরা কাজে কর্মে অমনোযোগী হন, কর্মক্ষম হতে পারেন না, বিষন্ন, হতাশ ও নিরানন্দ থাকেন এবং বার বার লক্ষ্যচ্যুত হন। তাঁদের অনেকেই একাকীত্বে ভোগেন। তাঁরা কোন কিছুতে উৎসাহ পান না।
নিয়মিত না ঘুমালে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারিরীক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। আরও অনেক সমস্যা দেখা দেয় এইসব মানুষের।
এক কথায় বলা যায়, ঠিকমত ঘুম না হলে স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হয় না।
.
বিশ্বের অন্তত ১০০ মিলিয়ন মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। সংখ্যাটা একেবারেই কম নয়। করোনার কারণে অনেকের মধ্যে হতাশা বেড়েছে এবং এতে করে তাঁদের ঘুম কম হচ্ছে।
সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। সুতরাং রাতে নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসক কিংবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
.
কারন যাই হোক না কেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ঘুম না হলে আপনি ভবিষ্যতে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ হারাবেন।
সুতরাং অজুহাত না দিয়ে রাতে নিয়মিত ঘুমানোর উপায় খুঁজুন, এবং নিয়মমত ও প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শুভ কামনা

লেখক:

Anwar Morsalin
Corporate Professional, Career Consultant & Motivational Speaker
Chief Executive Officer
Gaco Pharmaceuticals