১. খাবারে চিনি, নুন, ভাজা এবং মশলাদার খাবার কমিয়ে দিন- খাবার থেকে চিনি ও নুন কমিয়ে দিন। কমিয়ে ফেলুন ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার। বিস্কুট, কেক, চিপস, সফ্ট ড্রিঙ্কস বাদ দিন। এসব বাদ দিলে হজমশক্তি বাড়বে। এই খাদ্যাভ্যাসের ফলে পিপাসা ও মুখের দুর্গন্ধ কমে আসবে। মুড খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যাবে।

২. আস্তে আস্তে খান- খাওয়ার সময় বাড়িয়ে নিন। আস্তে আস্তে খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে খান। আস্তে আস্তে খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস। এ ভাবে খেলে খাবারের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ তৈরি হয়। এর ফলে হজমশক্তি বাড়ে। আর রমজান মাসে রোজা ভাঙার পর অর্ধেক ইফতার করা হলে মাঝখানে নামাজের বিরতি দিয়ে ফিরে এসে আবার কিছু খেতে পারেন।

৩. জিহ্বা পরিষ্কার করুন- টুথব্রাশ যারা ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতামূলক কাজ হতে পারে। এ জন্য বাজারে টাং ক্লিনার পাওয়া যায়। জিহ্বা পরিষ্কার করলে মুখের জীবাণু অনেকখানি দূর করা যায় এবং দুর্গন্ধ কমে আসবে। জিহ্বা পরিষ্কার করলে পাচনতন্ত্র ভালো ভাবে কাজ করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। কারণ মুখের সুস্থতার সঙ্গে হজমের সুস্থতা জড়িত। মুখে যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা খাবার গ্রহণের সময় পাকস্থলিতে চলে যায়। মুখ পরিষ্কার থাকলে এই ব্যকটেরিয়ার সংখ্যাও কমে আসে।

৪. প্রলোভনে পা দেবেন না- রমজান মাসে বাজারে নানান মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি। কিন্তু এগুলির অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর। এ সব খাবার কেনার আগে একটু চিন্তা করে নিন। এ সময়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।

৫. নিয়মিত স্নান করুন- নিয়মিত স্নান করবেন। জলে ইপসম নুন দিয়ে স্নান করলে ভালো। খনিজ লবণের ছোট স্ফটিক আকারে এই নুন পাওয়া যায়। এই নুন দেওয়া জলে স্নান করলে, তা আপনার দেহ শিথিল করতে সাহায্য করবে। এ উপাদানটি ব্যথা ও ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা-সহ বেশ কিছু রোগ সারিয়ে তোলে। মানসিক অবসাদও দূর করে। এ জন্য এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ ইপসম নুন জলে মিশিয়ে ১৫ মিনিট ধরে তা গুলতে হবে। সেই জল দিয়ে স্নান করবেন, কিন্তু অন্য কোনও প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না। নুন দেওয়া জলে স্নান শেষে পরিষ্কার জল দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলতে হবে।

৬. সুস্থ জীবনযাপন অভ্যাস করুন- এটি সংযমের মাস। সুস্থ জীবনযাপন অভ্যাস করুন। জীবনের সব অন্যায়-অবিচার বাদ দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে এ মাসেই। আপনার সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন হোন। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

৭. ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ডায়েট করুন- অনেকে রমজান মাস ছাড়াই খাবারের ব্যাপারে সংযমী হয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রমজান মাসে অতিরিক্ত পানাহার করে গণ্ডগোল বাধিয়ে ফেলেন। যদিও এ মাসে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ডায়েটিংয়ের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু এ মাসে পানাহারের ও বিরতির নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, তাই এ সুযোগটি কাজে লাগানো সম্ভব। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী খাবারের একটি তালিকা করুন ও সেই অনুযায়ী পানাহার করুন।

 

৮. মানসিক সন্তুষ্টি অর্জন করুন- রমজান মাসে আপনি আর আগের মতো জীবনযাপন করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করুন। আপনার প্রতিটি দিন হয়ে উঠুক আগের থেকে ভিন্ন। ধর্মকর্মে মন দিন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন ও দান সংগ্রহ করে যার সত্যিকার প্রয়োজন, তাকেই দিন। ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিন। আর এ ভাবেই মানসিক শান্তি ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।