হেপাটাইটিস-বি একটি নিরব ঘাতক।

হেপাটাইটিস-বি কি?
হেপাটাইটিস-বি একটি ভাইরাল সংক্রমন, যা লিভারকে আক্রমন করে এবং স্বল্পকালীন ও দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস (লিভার প্রদাহ) সৃষ্টি করতে পারে। স্বল্পকালীন লিভার প্রদাহের ফলে ১% রোগীর মৃত্যু হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের প্রায় ১৫-২৫% মৃত্যুবরণ করতে পারে। জন্মের সময় আক্রান্ত হওয়া রোগীদের প্রায় ৯০% দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস-বি তে আক্রান্ত হয়।

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস কি?
হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস হলো একটি আংশিকভাবে ডাবল স্টান্ডার্ড ডিএনএ ভাইরাস যা ভাইরাসের হেপাডনাভিরিটি পরিবারের সদস্য। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস হেপাটাইটিস-বি রোগের লক্ষন।

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

  1. সন্তান জন্মদানের সময় আক্রান্ত মা থেকে।
  2. আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ যৌন মিলনে।
  3. আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রক্ত গ্রহণ করলে।
  4. দেহ থেকে নিঃসৃত রস (যেমন- মুখের লালা, যোনি রস অথবা বীর্য) থেকে।
  5. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে।
  6. অস্ত্রোপচারের সময় অনিরাপদ সরঞ্জামাদির মাধ্যমে।
  7. সেলুনে শেভ অথবা চুল কাটানোর সময় কেটে গেলে।

লক্ষণ
প্রাথমিকভাবে যে সকল লক্ষণ দেখা যায়ঃ

  1. জন্ডিস
  2. শারিরীক দুর্বলতা।
  3. খাবারে অরুচি।
  4. মাথা ঘোরা।
  5. বমি বমি ভাব হওয়া।

দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস-বি তে আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগেরই কোনো প্রাথমিক লক্ষণ থাকে না।

হেপাটাইটিস-বি হলে কি হয়?

  1. জন্ডিস।
  2. লিভার সিরোসিস।
  3. লিভার ক্যান্সার।
  4. লিভার অকার্যকর হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।

মৃত্যু ঝুঁকিঃ
হেপাটাইটিস-বি ফাউন্ডেশনের মতে বিশ্বব্যাপী প্রতি ৩ জনের মাঝে ১ জন হেপাটাইটিস-বি এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে আনুমানিক ৬.৬ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত।

প্রতিরোধঃ
হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নেয়া উচিত। পাশাপাশি ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতিটি ব্যক্তির বিজ্ঞান সম্মত সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।