০ গায়ে হালকা কাপড় রাখুন। জ্বর বেশী হলে শিশুর সব জামা কাপড় খুলে দিন। শীত বোধ হলে হালকা চাদর বা কাঁথা গায়ে রাখতে পারেন।
০ জ্বর যে কারণেই হোক খোলা হাওয়া বাতাস জ্বর কমাতে সাহায্য করে। ঘরের জানালা দরজা খোলা রাখুন। ফ্যান ছেড়ে রাখুন বা হাত পাখা দিয়ে শিশুর সমস্ত শরীরে বাতাস করুন।
০ জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল সিরাপ, ট্যাবলেট বা সাপোজিটরী ব্যবহার করতে পারেন। জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফাঃ হলেই এই ঔষধ দিতে হবে। বয়স অনুসারে নির্দেশিত মাত্রার ঔষধ অন্ততঃ ৪ ঘন্টা অন্তর দিতে হবে। এর কোন কোর্স নেই, যতক্ষণ জ্বর থাকবে ততক্ষণ খাওয়াতে হবে।
প্যারাসিটামল সিরাপের ডোজ বা মাত্রাঃ
০ ১ মাস থেকে ৬ মাস বয়সের শিশু= আধা চামচ দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
০ ৬ মাস থেকে ২ বৎসর বয়সে= আধা চামচ থেকে দেড় চামচ দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
০ ৩ বৎসর থেকে ৬ বৎসর বয়স পর্যন্ত = দেড় চামচ থেকে ২ চামচ দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
০ ৭ বৎসর থেকে ১২ বৎসর বয়স পর্যন্ত = ২ চামচ থেকে ৪ চামচ দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
০ সিরাপের পরিবর্তে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ভেংগে বা গুঁড়ো করে খাওয়াতে পারেন। ১ টি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট= ৪ চা চামচ প্যারাসিটামল সিরাপ। ২ চামচ সিরাপের পরিবর্তে অর্ধেক টি ট্যাবলেট এবং ১ চামচ সিরাপের পরিবর্তে ১ টি ট্যাবলেটের চার ভাগের এক ভাগ খাওয়াতে পারেন। যে সব শিশু ট্যাবলেট বা সিরাপ মুখে খেতে পারে না তাদের মলদ্বারের ভেতরে প্রবেশ করানোর জন্য প্যারাসিটামলের সাপোজিটরী পাওয়া যায়। এটাও দিনে ৩ থেকে ৪ বার ব্যবহার করা যায়।
০ উপরোক্ত ব্যবস্থা সত্ত্বেও জ্বর বাড়তে থাকলে বা প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানোর ৪ ঘন্টার মধ্যে জ্বর বেড়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে বা গামছা ভিজিয়ে তা নিংড়ে নিয়ে প্রথমে পা তারপর হাত, বুক, পেট, পিঠ ও মাথা বার বার মোছান, একে টেপিড স্পনজিং বলে। ৩ থেকে ৫ মিনিট টেপিড স্পনজিং করলে জ্বর নেমে যাবে।
জ্বর কমানোর পদ্ধতি(টেপিড স্পনজিং):
০ আমাদের দেশে জ্বর হলে অনেকক্ষণ ধরে মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালা এবং ঠান্ডা বা বরফ পানি দিয়ে গা মোছানোর রীতি চালু আছে। জ্বর কমানোর এই পদ্ধতিটা বিজ্ঞান সম্মত নয়। বরফের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে গায়ে কাঁপুনি হতে পারে এবং জ্বরও বেড়ে যেতে পারে।
০ জ্বর হলে প্রচুর পানি, শরবত বা ফলের রস খেতে দিন।
০ জ্বর হলে বাচ্চাকে তার স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন।
০ জ্বর হলে শিশুর গায়ে বা মাথায় কখনোই তেল মাখাবেন না।