বর্ণনা*****
যোনিপথে অতিরিক্ত সাদা তরল বা আধা তরল পদার্থ নির্গত হওয়াকে লিউকোরিয়া বা শ্বেতস্রাব বলে৷ গ্রাম অঞ্চলে অনেক মহিলা একে খিচ ভাঙা কিংবা ঋতুভাঙা বলে থাকেন ( সিলেটি ভাষায় অনেকে ধাতু ভাঙ্গা বলেন ) । মহিলাদের জীবনে কম বেশী সকলেই এর ভুক্ত ভোগী বিধায় প্রত্যেক মহিলা এবং তার স্বামী শ্বেতস্রাব নিয়ে কিছুটা ধারনা থাকা দরকার । মুলত স্বাভাবিক শ্বেতস্রাব কোন অসুখ নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষ কিছুটা স্রাব নির্গত হওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়া মনে করতে পারেন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ঋতুচক্রের উপরও নির্ভরশীল ।
কিন্তু সাদা স্রাব বেশী দেখা দিলে জনন তন্ত্রের যে কোন অসুখ-বিসুখ অথবা জীবাণু আক্রমণের উপসর্গ মনে করতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত মূল অসুখটি ভাল না হবে তথক্ষন পর্যন্ত শ্বেতস্রাব বা লিউকোরিয়া জাতীয় অসুখ টি কমার কথা নয় । তার আগে শ্রী প্রজননতন্ত্র সম্মন্ধে কিছুটা ধারনা থাকার প্রয়োজন ( যৌন রোগ পর্বে দেখুন )

শ্বেতস্রাব কে দুইটি ভাগে ভাগ ভাগ করতে পারেন

leu-5

১। স্বাভাবিক অথবা ফিজিওলজিক্যাল ঃ
স্বাভাবিক স্রাব যা র শ্লেষ্মা বেশির ভাগ উৎপাদিত হয় শ্লেষ্মা জরায়ু সারভিক্সের গ্রন্থি দ্বারা এবং বাদ বাকি উৎপাদিত হয় যোনিদেহ ও অন্যান্য গ্রন্থি থেকে , যা দেখতে স্বচ্ছ তরল শ্লেষ্মা যুক্ত । একজন সুস্থ মহিলার দৈনিক ১ থেকে ৪ মিঃলিঃ পরিমাণ ( আধা থেকে এক চামচ পরিমাণ ) শ্বেতস্রাব উৎপাদিত হয়ে থাকে । তবে এর পরিমাণ বেশী হতে পারে যদি দীর্ঘ স্থায়ী যৌনমিলন অথবা অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা বা আবেগ , ইস্ট্রোন ট্যাবলেট সেবন ( জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি ) মাসিক শুরুর ঠিক আগের দিনগুলোয়, ওভ্যলেশনের (ডিম্বস্ফোটন) সময় , মেনোপজের সময় ( মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় ) অথবা পিউবারটি বা নতুন মাসিক শুরু হওয়ার আগে ঠিক তদ্রুপ কন্যাশিশুর জন্মের প্রথম দশ দিনের ভিতর ও  লিউকোরিয়া দেখা দিতে পারে ( মায়ের শরীরের অতিরিক্ত স্ত্রী-হরমোন থাকে, তার প্রভাবেই এমন হয় ) -গর্ভাবস্থায় মায়ের শ্রীরে ইস্ট্রোজেনের আধিক্যের জন্য বা ডেলিভারির পর দেড় মাস থেকে তিন মাস পর্যন্ত লিউকোরিয়া থাকতে পারে । মোট কথায় হরমোনের ভারসাম্য জনিত কারনেই তা হয়ে থাকে এবং তখন একে স্বাভাবিক শ্বেতস্রাব মনে করতে হবে ।

 

শ্বেতস্রাব দেখতে পাঁচ ধরনের ঃ

leu-22
ক. শ্লেষ্মাজাতীয়; খ. শ্লেষ্মা ও পুঁজমিশ্রিত; গ. পুঁজজাতীয়; ঘ. দুর্গন্ধযুক্ত এবং ঙ. শ্লেষ্মাবিহীন তরল জাতীয়।
যাই হউক যদি শ্বেতস্রাব দুর্গন্ধ যুক্ত ও ঘন হয় ( বাদামি হলুদ, লালচে, অথবা পিত্ত সবুজ ) তাহলে শ্রী জনন তন্রের যে কোন একটা অসুখ বা প্রদাহের কথা ভাবতে পারেন এবং তখন বুজার চেস্টা করবেন স্রাব যোনি বা যোনিপথ অথবা সারভিক্স ( জরায়ুর মুখ ) থেকে পতিত হচ্ছে তা বুজার । গঠন ভিত্তিক যোনি থেকে বের হওয়া  স্রাব এবং জরায়ুর মুখ থেকে বের হওয়া স্রাব মুলত দুটি দুই ধরণের ।

 

 

ক– হরমোনের ভারসাম্য জনিত কারনে ( ফিজিওলজিক্যাল ) ঃ

leu-23

অর্থাৎ হরমোনের আধিক্যতা , স্বল্পতা অথবা ভারসাম্য জনিত কারনে লিউকোরিয়া হতে পারে- মাসিক চক্রের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোন বৃদ্ধির ফলে, মেনোপোজ বা মাসিক স্রাব বন্ধ হওয়ার সময় – প্রথম মাসিক স্রাব সূচনার সময় যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি ফলে – অতিরিক্ত যৌন কামনা জাতীয় আবেগের ফলে বাথলিন গ্ল্যান্ড সমূহের নিঃসরণ বৃদ্ধি পেয়ে …।
তখন একজন সাধারণ চিকিৎসকের পক্ষে প্রাথমিক অবস্থায়হ বুজে উঠা কস্টকর, রিসার্চ অনুসারে দেখা যায়, হরমোন স্বল্পতার জন্য হলে সে সময় রোগীর শারীরিক অপুষ্টিজনিত অন্যান্য অসুখের লক্ষন দিয়ে থাকে । হরমোন জনিত কারনে হলে স্রাব দেখতে সাদা পিচ্ছিল জেলির মত অথবা দুদের মত এবং এতে কোন দুর্গন্ধ না থাকলেও রোগীর পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা সহ ( বদহজম বা কুস্টকাঠিন্নতা ইত্যাদি ) প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রণ ইত্যাদির ভিটামিন সমূহের ঘাটতি বিদ্যমান থাকতে পারে । হরমোন জনিত বিষয়ে আর ও জানতে হলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

 

 

 

খ— অভ্যাস গত , জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ সেবনের ফলে ঃ

leu-12

যারা হস্তমৈথুন বা ম্যাস্টারবেশনে অভ্যস্ত তারা তাদের প্লেয়িং ইন্সট্রোমেন্টে সমুহ পরিষ্কার না করার কারনে অথবা কেথিটার, নল জাতী্য বা প্লাস্টিক অন্য কিছু ভেজিনার ভিতর ঢোকালে ( douching ) তার দ্বারা আঘাত জনিত ইনফ্লেমেশনের কারনে বা যারা বহুপুরুশ অথবা পরপুরুষের সাথে যৌন সহবাসে আশক্ত তাহারা এই অসুখটিতে একটু বেশী ভুক্ত ভুগি হয়ে থাকেন ।

সাবধানতা ঃ যারা ওড়াল সেক্স ক্রীড়া করেন তাদের বেলায় অবশ্যই তা থেকে বিরত থাকতে হবে – কেননা মুখের ভিতর বিশেষ করে জিহ্বা এবং দাঁতের গোড়ালির মধ্যে ফাঙ্গাই এবং প্যারাসাইট জীবাণু বেশী বসবাস করে বিধায় তা থেকে ও সংক্রামিত হতে পারে , তা ছাড়া যে কোন সুস্থ ব্যাক্তির পাকস্থলী ও কোলনের সঙ্কোচন-প্রসারনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে ( পেটের কামড় জাতীয় অসুখ ) – বিপরীত দিকে আক্রান্ত মহিলা যদি দুধ দাতা মা থাকেন,  তাহলে তার শিশুকে বুকের দুধ দেওয়ার সময় অবশ্যই সতর্ক ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিৎ ।
ঠিক তদ্রুপ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির লাইগেশন বা তদ্রুপ অন্যান্য পদ্ধতি ব্যাবহারের ফলে অথবা যারা দীর্ঘ দিন এন্টি বায়োটিক জাতীয় ঔষধ সেবন অথবা করেন বা যাহারা বেশি চিনিযুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন তাহারা লিউকোরিয়া জাতীয় অসুখে সব সময় ভুগতে পারেন ।
এ ছাড়া — শরিরের ইমিউন সিস্টেম বেশি দুর্বল যাদের  ( পুষ্টি জনিত ) তারা বিনা কারনে  আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় —

 

 

২- প্যাথলজিক্যাল বা রোগজনিত কারণ ঃ- STDs

leu-9
কখন বোঝবেন অসুস্থতার কারণেই শ্বেতস্রাব হচ্ছে ?

যদি অতিরিক্ত স্রাব সহ , চুলকানী ,শ্বেতস্রাবের বর্ণের পরিবর্তন অথবা সঙ্গে রক্ত কিংবা পুঁজ থাকে, তলপেটে ব্যথা থাকে, জ্বর থাকে। রোগ জনিত স্রাবের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে জনন তন্ত্রের যে কোন ধরণের ইনফেকশন, বিশেষ করে যৌন রোগের সংক্রামণ অথবা জনন তন্ত্রের অন্যান্য ত্রুটি গত অন্য যে কোন ধরণের একটা লক্ষন তবে রোগ জনিত কারনের মধ্যে ৯০% রোগী যৌন জীবাণুর ইনফেকশন জনিত কারনেই লিউকোরিয়ায় ভুগে থাকেন ।

 

লিউকোরিয়ার জন্য যে যে যৌন জীবাণু সবচেয়ে বেশী দায়ি তা নিম্নরূপ ঃ

ক – ফাঙ্গাই জাতীয় জীবাণুর ইনফেকশন ( Candida Albicans, গ্রামীণ ভাষায় দাদ জাতীয় অসুখ )ঃ

leu-25

জীবাণুটি টি শরীরের ভিজা বা সংকোচিত জায়গায় আক্রমণ করলেও মহিলাদের যোনি বা তার আশেপাশে আক্রমণ করে একটু বেশী এবং তা ছোঁয়াচে অসুখ হলেও সহবাসের ফলে সংক্রামিত হয় একটু বেশী অথবা যারা মেন্সট্রুয়েশনের সময় কাপড় ব্যাবহার করেন তা পরিষ্কার ও শুকনা না থাকলে অর্থাৎ পারিপারশ্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে এই জীবাণুটি ও সংক্রামিত হতে পারে এবং এই জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হলে স্রাব দেখতে ঘন, সাদা ও পনিরের মতো মনে হবে
মনে রাখবেন একবার যদি যোনি বা তার আশে পাশে এই জীবাণুটি আক্রমণ করে ( দাঁদের মত ) এবং তা পুরাতন হয়ে যায় তা হলে ঐ ঐ জায়গার স্টেইন রিমুভ করা যায়না বিধায় সারাজীবন এই বিশ্রী দাগ থেকেই যাবে । এশিয়ান দরিদ্র পরিবারে সমষ্টিগত আক্রমণ সবচেয়ে বেশী এবং জীবাণুটি যৌন রোগ হিসাবে চিহ্নিত ………………….

 

খ—— প্যারাসাইট ( Trichomonas Vaginalis )

leu-26
মহিলাদের ৮৫% লিউকরিয়া বা সাদা স্রাব জাতীয় অসুখের মুল কারনের মধ্যে ক্যানডিডিয়াসিস এবং ট্রাইকোমনাস এ দুটি জিবানুই সবচেয়ে বেশী দায়ি ।

 

গ——— – এছাড়া গার্ডনেরেলা ভ্যাজিনালিস এবং স্যালামাইডিয়া ব্যাক্টোরিয়ার দ্বারা সংক্রামিত হলে স্রাবের গন্ধ মাছের আঁশের গন্ধের মত মনে হবে এবং ইহা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষের মাধ্যমেই তা সংক্রামিত হয়ে থাকে আর ও বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

ঘ——– এবং ভ্যানারেল ডিজেজ জীবাণুর দ্বারা লিউকোরিয়া হলেও ভাল এন্টোবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে তা সেরে যায় – যেমন গনোরিয়া জীবাণুর দ্বারা হলে স্রাব দেখতে ধোয়াটে ও হলুদ এবং এর তেওমন কোনো উপসর্গ প্রথমে বুঝা যায়না , যা যৌন সহবাসে সংক্রামিত হয়ে থাকে । বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

সিফিলিস ( কোনো উপসর্গই থাকে না যা যৌন সহবাসে সংক্রামিত হয়ে থাকে ) , মাইকোপ্লাসমা হোমিসিন, ইউরিয়াপ্লাসমা ইউরিয়া লাইটিকাম, , হারপিস সিমপ্লেক্স, এইডস ইত্যাদি জীবাণুর কারণে ও হতে পারে ।

 

 

৩— জনন তন্ত্রের অন্যান্য অসুখ ও দুর্ঘটনার কারনে ঃ

leu-11
ক—— আঘাত ঃ যোনি অথবা জরায়ুর মুখে আঘাতের কারনে বিশেষ করে সন্তান ভুমিস্ট হওয়ার সময় বা গর্ভপাত করালে অথবা জ্বোর পূর্বক যৌনতা বা দর্শন , অঙ্গ প্রতিস্থাপন ইত্যাদির কারনে ।
খ——- জনন তন্ত্রের অন্যান্য অসুখের কারনে, যেমন ঃ মূত্রনালি, কিডনি, মুত্রপতের ইনফেকশন (UTI) , সারভাইকাল ক্যান্সার (Cervical cancer), যোনি পথের সিস্ট (Vaginal cyst), ডিম্বাশয়ের সিস্ট (Ovarian cyst), পেল্ভিক ইনফ্লামেটোরি ডিজিজ (Pelvic inflammatory disease, (PID প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (Placenta previa) , সারভিসাইটিস (Cervicitis), এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া (Endometrial hyperplasia) , পেলভিক অরগান প্রোলেপ্স (Pelvic organ prolapse), ভালভোডাইনিয়া (Vulvodynia) , পেলভিক ফিস্টুলা (Pelvic fistula) ইত্যাদি অসুখের কারনে ……। ( বিস্তারিত পরবর্তী পর্ব সমুহে তুলে ধরার চেস্টা করব ।

 

 

লক্ষন ঃ

Lower-back pain is one of the top three reasons that Americans go to the doctor. But the solution can be a DIY project.

স্রাবের ধরন ঃ বেশি পরিমাণ নিঃসরণের ফলে পরনের কাপড়, পেটিকোট, পাজামা বা প্যান্টি বেশি ভিজে যায়।– নিঃসরণের সাথে যোনিপথ ও আশেপাশের অংশ চুলকায় — নিঃসরণের সাথে দুর্গন্ধ বের হয়– নিঃসরণ স্বচ্ছ সাদা, তরল ও পিচ্ছিলের পরিবর্তে বাদামী, সবুজ, হলুদ বা ঘন সাদা থকথকে অথবা — ফেনা যুক্ত সাদা বা চাল ধোয়া পানির মতো তরল পদার্থ বের হবে ।
অন্যান্য লক্ষনের মধ্যে ঃ যোনিতে, তলপেটে এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে- বিশেষ করে কোমরের পিছন দিকে , পায়ে ঊরুর পেশীতে নিচের দিকে দাবিত ব্যাথা পরিলক্ষিত হতে পারে ও সেই সাথে অস্বস্থি অনুভব হবে অথবা মাংসপেশীর খিঁচুনি/টান (Cramps and spasms) হতে পারে এবং শরীরের মৃদু জ্বর অনুভব হবে – কারও বেলায় অন্ত্র ও পাকস্থলী জনিত অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে ।
জনন তন্ত্ররের সমস্যার মধ্যে যা দেখা দিতে পারে ঃ- -যোনি বা যৌনাঙ্গের বাইরে ব্যথানুভ, জ্বালাপোড়া ভাব থাকা সহ যোনি ফোলে যাওয়া অথবা প্রস্রাব করার সময় জ্বালা পোড়া সহ যৌনাঙ্গে নালীর মধ্যে জ্বলা অনুভূত হতে পারে- এ ছাড়া ও সহবাসের সময় ব্যাথা , গর্ভকালীন ব্যথা (Pain during pregnancy), ঋতুস্রাবের আগে বা পরে বা কারও কারও বেলায় স্পর্শে রক্তপাত (জরায়ুর মুখে ঘা বা প্রদাহ থাকলে ), জরায়ু, বা ডিম্বনালিতে সিস্ট, টিউমার অথবা সেই অঙ্গের ক্যানসার জনিত কারনে ও তা দেখা দিয়ে থাকে ।

 

শ্বেতস্রাবে কি কি থাকে বা সে সময় শরীরে দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় কেন ঃ

leu-y-1
ইহা জরায়ু ও যোনিপথের সাধারণ নিঃসরণ, এতে মরা কোষ ও কিছু ভাল ব্যাকটেরিয়া , হরমোন, তৈল ও সুগার সহ বিভিন্ন ধরণের এসিড বিদ্যমান থাকে। স্বাভাবিক শ্বেতস্রাবে যা থাকে , Water. Pyridine. Squalene. Urea. Lactic acid, Complex alcohols and glycols, Ketones & aldehydes, Lactobacillus & Bifidobacterium.Epithelial cells & leukocytes ইত্যাদি ।
অস্বাভাবিক সাদাস্রাব শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও আমিষ বের করে দেয়। এ সময়ে পুষ্টি, বিশ্রাম ও সচেতনতার অভাবে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয় অথবা হরমোন জনিত ভারসাম্যতার কারনে যৌন অনীহা সহ মানসিক অনেক ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে ।

 

ডায়াগনোসিস ঃ

leu-28
শারীরিক পরক্ষা হিসাবে , একজন সম্মানিত শ্রী -রোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক প্রথমেই রোগের ইতিহাস ভাল করে জানার চেস্টা করবেন এবং তখন আপনার চিকিৎসক কে কোন কিছু লুকিয়ে রাখা বা লজ্জা মনে করা মোঠেই উচিৎ নয় । চাইলে দায়িত্ব পারাপ্ত চিকিৎসক আপনার যোনি বা যোনি মুখ অথবা জরায়ুর মুখ সহ জনন তন্ত্রের সাথে যুক্ত অঙ্গ সমুহ পরিক্ষা নিরীক্ষা করতে পারেন এবং সে জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ভিজোডাইলেশন ( ভুলবা বা যোনি মুখ ওপেন করা ) বা বিমানোইয়েল করে দেখতে পারেন । বিবাহিত থাকলে যৌন সহবাস সংক্রান্ত কোন সমস্যা থাকলে তাও আপনার চিকিৎসক কে খোলে বলা উচিৎ ।
ডায়াগনোসিস হিসাবে – ট্রাকোমনসিস জাতীয় জীবাণুর জন্য পি সি আর , রেপিড টেস্ট অথবা হুইপ টেস্ট ( “whiff”) যে কোন একটা পরিক্ষা করা ভাল ।
প্রদাহ অথবা জীবাণু জনিত মনে করলে সাদা স্রাবের নমুনা পরিক্ষা অথবা কালচার করে নিশ্চিত হয়ে ঔষধ সেবন করলে শতভাগ নিশ্চিত ২১ দিনের ভিতর সুস্থ হওয়ার ( জীবাণু জনিত হলে অবশ্যই স্বামী- শ্রী উভয়য়ের ঔষধ সেবন করতে হবে )
হরমোন জনিত ভারসাম্যতার কারনে মনে করলে হরমোন ভ্যালেন্সিং টেস্ট অথবা মাদার হরমোন টেস্ট করে ( DHEA ) সঠিক কারন খোঁজে বের করতে পারেন । এ ছাড়া রোগের ইতিহাস অন্য রোগের সাথে সম্পর্ক যুক্ত মনে করলে আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি অথবা এম আর আই করার উপদেশ ও দিতে পারেন । তবে হরমোন জনিত গোলাযোগের কারনে হলে মাসিক স্রাব জনিত অন্যান্য লক্ষনের সাথে ডিসমেনোয়ার ইতিহাস থাকবেই ।

 

 

চিকিৎসা ঃ

leu-29
অসুখটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবেই বেশী হয়ে থাকে বিধায় সে দিকে একটু বেশী খেয়াল রাখতে হবে বিশেষ করে নিরাপদ পানি ব্যবহার, মাসিকের সময় পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড়/প্যাড ব্যবহার, প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর অবশ্যই কাপড়/প্যাড পরিবর্তন ও জীবাণুমক্ত করা। মাসিকের পর ব্যবহার্য কাপড় পুনরায় ব্যবহার না করা ভালো তবে করতে হলে তা গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে ভালো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে । কোন অবস্তাহতেই আদ্র ভেজা কাপড় বা প্যাড ব্যাবহার করবেন না ।
জীবাণুর দ্বারা সক্রামিত লিউকোরিয়ার মধ্যে ৮০%-৯০% ই ফাঙ্গাই ( Candida Albicans ) এবং ট্রাইকোমনাস ( Trichomonas ) জীবাণু বেশী দায়ী এবং বাদ বাকি অন্যান্য জীবাণু, হরমোনের ভারসাম্যতা ও শ্রী- প্রজনন তন্ত্রের অন্যান্য অসুখ বিসুখ অথবা বদ অভ্যাসের কারনে হয়ে থাকে – তাই অসুখটি কমাতে হলে অবশ্যই এর মূল কারন খোঁজে বের করে তার সঠিক চিকিৎসা করতে হবে নতুবা সারা জীবন ঔষধ সেবন করলেও পূর্ণ সুস্থ হওয়ার কথা নয় । আরেকটি কথা লিউকোরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত মহিলা যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে ঔষধ সেবন না করাই ভাল অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্ষ ছাড়া ঔষধ সেবন করবেন না – তবে অনুরুধ থাকবে সে সময় গর্ভ ধারন না করার ।

 

১- ক্যান্ডিডা ফাঙ্গাস ( Candida Albicans ) ঃ

leu-31
লক্ষন হিসাবে প্রচুর চুলকানি থাকবে এবং জীবাণুটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং অপরিষ্কার কাপড়-চোপড় ব্যাভারেই বেশী সংক্রামিত হয় ) – ফাঙ্গাস দ্বারা নিশ্চিত হলে মুখে সেবনের ট্যাবলেট হিসাবে Fluconazole 150mg একক ডোজের সাথে ৭ দিন ভ্যাজিনাল সাপজেটোরি ট্যাবলেট Nystatin ( যোনির ভিত ঢোকিয়ে রাখতে হয় ) অথবা ক্রিম ব্যাবহার করতে হবে । বিকল্প হিসাবে Miconazole, Clotrimazole, Terconazole যে কোন গ্রোফের ঔষধ ব্যাবহার করতে পারেন —
অসুখটি পুরাতন হলে Fluconazole ট্যাবলেট প্রতি সপ্তায় একটি করে ৬ সতাহ সেবন করতে হবে । বিবাহিত থাকলে রোগীর স্বামীকেও প্রতিষেধক হিসাবে Fluconazole 150mg একক ডোজ সেবন করতে হবে । ( বিঃদ্রঃ ঔষধ গুলো আপনার হাউস ফিজিশিয়ানের পরামর্ষে সেবন করা উচিৎ ) আরও বিস্তারিত জানতে বিস্তারিত চর্ম রোগ পর্বে দেখুন ।

 

২- প্রটোজোয়া অথবা ট্রাইকোমনাস (Trichomonas ) জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হলে –

leu-3
Metronidazole 200 mg orally ট্যাবলেট একটা করে দিনে ৩ বার ৭ দিন অথবা Clindamycin 300mg ট্যাবলেট একটা করে দিনে ২ বার ৭ দিন সেবন সহ সহ ভ্যাজিনাল  ক্রিম বা ট্যাবলেট  Ornidazole/Candid v1 or v3 ব্যাবহার করলে পারাথমিক অবস্থায় পূর্ণ ভাল হওয়ার কথা ।

অথবা Clotrimazole 100 mg এক সপ্তাহ ব্যাবহার করলে ট্রাইকোমনাস জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত রোগী পূর্ণ সুস্থ হওয়ার কথা । অথবা বিকল্প হিসাবে Tinidazole, Secnidazole গ্রোফের ঔষধ ও সেবন করতে পারেন এবং অসুখটি ২১ দিন পর থাকার কথা নয় । বিস্তারিত যৌন রোগ পর্বে দেখুন । ট্রাইকোমনাস দ্বারা আক্রান্ত জীবাণুর চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে জীবাণু ধ্বংস না হয়ে হয়ে অসুখটি বৃদ্ধি পাবে ।  একি সাথে চিনি ও ময়দা জাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিৎ –
মনে রাখবেন স্বাভাবিক শ্বেতস্রাবে ল্যাক্টোবিলাই ব্যাসিলাস ব্যাক্টোরিয়া বেশী থাকে এবং এর এসডিক পি এইচ ব্যালেন্স ৪-৪.৫ থাকে বিধায় ইহা যোনি ও তার আশেপাশের অঙ্গকে ক্ষতিকারক ব্যাক্টোরিয়া থেকে মুক্ত রাখে এবং একি সাথে যোনিপথের কোষের স্বাভাবিকতা রক্ষা করা সহ যৌনমিলনের সময় লুব্রিকেসনের কাজ করে বা পুরুষের শুক্রাণু কে নিউট্রোলাইজ ও দীর্ঘায়ু করতে সাহায্য করে ( ৮ ঘন্টা ) । সে জন্য সেই স্থানে ডিওডোরান্ট জাতীয় স্প্রে অথবা ক্যামিক্যাল জাতীয় সুগন্ধির ব্যবহার ইত্যাদি না করাই ভাল ।

 

 

৩- যৌন জীবাণুর দ্বারা সংক্রামিত হলে – STD diseases ( গনোরিয়া, সিফিলিস, স্যালামিডিয়া ইত্যাদি জীবাণু )

g-017
রিসার্চ অনুসারে, শতকরা ৯% মহিলারা এই জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন । মনে রাখবেন জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর জীবাণু সংক্রামণ কমে যাওয়ার পরও বেশ কিছুদিন পর্যন্ত লিউকোরিয়ার ধারবাহিকতা চলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা কমে যায় যদি পুনরায় জীবাণু আক্রান্ত না হয়ে থাকেন ।
সাধারণ ডোজ হিসাবে Azithromycin 20 mg/kg/day orally একক ডোজ হিসাবে ৩ দিন ই যথেষ্ট –
সিডিসি ফরমোলা অনুযায়ী ( ২০১৬ বি ফেব )
For the treatment of chancroid, the CDC recommends antibiotic therapy from 1 of 4 equally efficacious agents, as follows—
Azithromycin – 1 g orally (PO) as a single dose
Ceftriaxone – 250 mg intramuscularly as a single dose
Erythromycin base – 500 mg PO 3 times daily for 7 days
Ciprofloxacin – 500 mg PO twice daily for 3 days
Single-dose treatment has the advantage of observed compliance.
রুগী গর্ভবতী হলে Ceftriaxone ড্রাগস ব্যাবহারের সুপারিশ করা হয়ে থাকে ।

 

 

৪- হরমোনের ভারসাম্যজনিত কারনে হলে ঃ (ATROPHIC VAGINITIS )

leu-32
ইস্ট্রোন হরমোনের অভাব জনিত কারনে হলে, যা রোগীর লক্ষন হিসাবে , যোনি শুষ্কতা , ডিসমেনোরিয়া, প্রস্রাবের জ্বালাযন্ত্রণা ইত্যাদি মেনোপোজ , বারে বারে গর্ভপাত অথবা যারা বেশী সন্তান জন্ম দেন তাদের বেলায় এ জাতীয় সমস্যা বিদ্যমান থাকবে- বিস্তারিত শ্রী- রোগ পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন )
hormone-replacement therapy by mouth
ট্যাবলেট Ethinyl estradiol 0.01 mg একটি করে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সেবন করতে হবে এবং সাথে ইস্ট্রোজেন প্রেসারি অথবা ইস্ট্রোজেন ভ্যাজিনাল ক্রিম কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যাবহার করতে হবে । যার রেজাল্ট পেতে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ।
মনে রাখবেন ইস্ট্রোন ও অন্যান্য হরমোন এবং এন্ড্রমেট্রিয়েল গ্ল্যান্ড সমুহের নিঃসরণ বৃদ্ধির কারনে হলে , সে জন্য এর বিপরীত ঔষধ সেবন না করাই ভাল বরং উক্ত রোগী বিবাহিত না থাকলে তাকে বিবাহ দেওয়া উচিৎ অথবা উপবাস জাতীয় ডায়েট করে কিছু দিন অভ্যস্ত হলে তা এমনিতেই সেরে যায় । তারপর ও যদি হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় তাহলে হরমোন নিরোধক ঔষধ সেবন করতে পারেন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্ষে । রোগী যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন এবং হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায় তাহলে সাইকোলজিক্যাল অন্যান্য অসুখ সহ হিষ্টিরিয়া বা দাম্পত্য জীবনের অনেক ব্যাক্তিগত কারন জড়িত থাকতে পারে ।

 

৫- অন্যান্য অসুখ বিসুখ ঃ
অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক্স বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন , ডায়াবেটিস এবং রক্ত শুন্যতা অথবা মূত্রনালি, কিডনি, মুত্রপতের ইনফেকশন (UTI) , সারভাইকাল ক্যান্সার (Cervical cancer), যোনি পথের সিস্ট (Vaginal cyst), ডিম্বাশয়ের সিস্ট (Ovarian cyst), পেল্ভিক ইনফ্লামেটোরি ডিজিজ (Pelvic inflammatory disease, (PID প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (Placenta previa) , সারভিসাইটিস (Cervicitis), এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া (Endometrial hyperplasia) , পেলভিক অরগান প্রোলেপ্স (Pelvic organ prolapse), ভালভোডাইনিয়া (Vulvodynia) , পেলভিক ফিস্টুলা (Pelvic fistula) ইত্যাদি থাকলে তার সঠিক ব্যাবস্থা অবলম্বন করতে হবে নতুবা সাদা স্রাবের সমস্যা লেগেই থাকবে !

 

৬- শারীরিক ও পুষ্টি জনিত অভাবে অসুখটি না সারলে যা করতে হবে ঃ

leu-33
যদি অসুখটি দীর্ঘ দিনের হয় তাহলে অবশ্যই শারীরিক পুস্টিগত অভাব দেখা দিবে এবং তখন পুস্টিগত সমস্যা দুর করতে না পারলে অনেকের বেলায় অসুখটি থেকে পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্বভ হবেনা অথবা শ্রী জনন তন্ত্রের অন্যান্য জঠিলতা থেকেই যাবে ।
রিসার্চ অনুসারে দেখা যায় মিহি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খাওয়া ( বিশেষ করে চিনি জাতীয় ) এবং একি সাথে প্রোটিন জাতীয় খাবার বৃদ্ধি করা উচিৎ ( দই, চাকা দুধ ইত্যাদি ) .  দই সেবনে ল্যাক্টোব্যাসিলাস বেশী পাওয়া যায় বিধায় তা সেবন করা সবচেয়ে উত্তম এবং সেই সাথে অন্ত্রে কোলনের সহনশীলতা বৃদ্ধিকারক ভিটামিন বি, সি জাতীয় খাবার ও বেশ ফলদায়ক । ( বি- 50-200 মিলিগ্রাম / দিনে, সি 50 মিগ্রা / দিনে ) + ভিটামিন এ এবং ই ও জিঙ্ক জাতীয় খাবার নিয়মিত একমাস সেবন করতে পারলে পুস্টিগত কারনে যে লিউকোরিয়ার সমস্যা দেখা দেয় তা আর থাকার কথা নয় ।

 

৭- প্রাকৃতিক ভাবে বৈজ্ঞানিক রিসার্চ অনুসারে যে সকল স্বীকৃত ভেষজ যা সহযোগী হিসাবে লিউকোরিয়ার জন্য ব্যাবহার করতে পারেন

 

( প্রাথমিক পর্যায়ের লিউকোরিয়া রোগীদের জন্য অন্যান্য ঔষধের প্রয়োজন নাও হতে পারে যদি মারাত্মক যৌন জীবাণুর দ্বারা সংক্রামিত না হয়ে থাকেন )

১- দই ঃ

leu-34
এতে উচ্চ পরিমানে প্রোটেন এবং ক্যালসিয়াম বিদ্যমান । যা কোলনের সহিনশলতা বজায় রাখতে বিশেষ একটি গুরত্ত পূর্ণ ভেষজ । যোনির ক্ষতিকারক ব্যাক্টোরিয়া ধ্বংস করতে ( ট্রাইকোমনাস অথবা pathogens such as Candida and Gardnerella ) পরীক্ষিত ভাবেই ভাল একটি ভেষজ খাবার তা সকলের ই জানা । গবেষণা অনুসারে দেখা যায় দই ব্যাবহারে শ্বেতস্রাবের পি এইচ এর মাত্রা যাদের ৪.৭ এর অধিক তাদের বেলায় মাত্র এক সপ্তায় তা নামিয়ে ৪.১ নিয়ে আসে , ফলাফল অনুসারে দেখা যায় দই সাদা স্রাবের মাক্রোইনভায়রোমেন্ট পি এইচ এর মাত্রা রিস্টোর করতে খুবি গুরুত্ব পূর্ণ একটি উপাদান ।
নিয়ম ঃ এক চামচ দই এক টুকরা পরিষ্কার সাদা সুতির কাপড় অথবা তূলাতে ভিজিয়ে তা যোনির ভিতরের দেওয়ালে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং এর পর তা ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন – দিনে দুইবার — যা টারকোমনাসিস ক্রিমের মতই কার্যকর এবং মাত্র তিন দিনের ভিতর ই সুন্দর একটা রেজাল্ট পেতে পারেন ।

 

২- অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ঃ
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একটা শক্তিশালী এন্টসেপ্টিক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । তাই যোনিতে এর ব্যাবহারে স্রাবের এসিডিক ব্যাল্যান্সের ভারসাম্যতা বজায় রাখা সহ ক্ষতিকারক ব্যাক্টোরিয়ার বংশ বৃদ্ধি প্রতিহত করে – বা দুর্গন্ধ প্রতিরোধক , ইহাই প্রমাণিত ।
নিয়ম ঃ এক কাপ সমপরিমাণ অরগানিক অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এক বাকেট ( বালতি ) উষ্ণ গরমম পানিতে মিশিয়ে তাথে ১০ মিনিট বসে থাকুন প্রতিদিন একবার – তিন দিন পর অবশ্যই ভাল একটা রেজাল্ট পাওয়ার কথা ।
৩- রসুন ( Garlic ) ঃ
ভেষজ হিসাবে রসুন একটি শক্তিশালী এন্টি-ভাইরাল , মাইক্রোবিয়েল এবং এন্টি-ব্যাক্টোরিয়াল এজেন্ট তা সকলের ই জানা – সে জন্য অবশ্যলিকোরিয়ার জন্য ভাল একটি ভেষজ ঔষধ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।
নিয়ম ঃ ২ ক্লোভ রসুন এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সয়ালে খালি পেটে পান করুন – এভাবে এক সপ্তাহ পান করার পর খুব সুন্দর একটা রেজাল্ট পাওয়ার কথা — অথবা এক ক্লোভ রসুন কে মিহি করে রাতে ঘুমাবার সময় লাগিয়ে পরদিন সকালে তা ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন – আবার ২ দিন পর ঠিক একি ভাবে ব্যাবহার করুন – এভাবে তিন বার করার পর অবশ্যই ভাল একটা রেজাল্ট পাবেন বিশেষ করে ক্যান্ডিসাস এল্বিকান দ্বারা আক্রান্ত জীবাণুর জন্য অন্যান্য যে কোন ঔষধের চাইতে ভাল ফল দায়ক ( সতর্কবাণী – জোনের ভিত ক্ষত বা প্রদাহ থাকলে তা ব্যাবহার না করা ভাল, তখন ইহা তীব্র যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে )

৪- চা পাতার তৈল ( Tea Tree Oil ) ঃ

leu-35
সারা পৃথিবী জুড়েই চা পাতার তৈল একটি সমাদৃত এন্টিসেপ্টিক, এন্টি-মাইক্রোবিয়েল এবং এন্টি ইনফ্লেমেশন ভেষজ হিসাবে খুবি সমাদৃত । বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান মহিলাদের কাছে অন্য যে কন ঔষধের চাইতে ইহা বেশী সমাদৃত ।
রিসার্চ অনুসারে বর্তমানে ভাইরাল যোনি ও জরায়ুর ক্যানসারে ও ব্যাবহারের কথা বলা হয়েছে । গবেষণা অনুসারে দেখা যায় টি ট্রি অয়েল ব্যাবহারে ব্যাক্টোরিয়া ও ফাঙ্গাই জাতীয় স্রাবের দুর্গন্ধ দুর করতে বাজারের অনেক ঔষধের চাইতেও ভাল কার্যকর যার গুনাগুণ ৯০% কার্যকর ।
নিয়ম ঃ ৫ ফোটা টি ট্রি অয়েল এক কাপ পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার যোনির ভিতরে ব্যাবহার করুন ( অনুরুধ থাকবে ভাল মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানি দেখে টি ট্রি অয়েল কেনার )
মেথি-পাতা ঃ
মেথি পাতা শুধু মাত্র এন্টি ব্যাক্টোরিয়াল হিসাবে কার্যকর বিধায় এন্টি-ফাংলা এবং আন্টি ভাইরালে তেমন কাজ করেন বিধায় জীবাণু জাতীয় লিউকোরিয়ায় তা ব্যাবহার করতে পারেন ।

নিম পাতা ঃ
নিম পাতা ও একটি মধ্যম ধরণের এন্টি-ভাইরাল এবং এন্টি ফাঙ্গাল প্রদাহ রোধক ভেষজ বিধায় লিউকোরিয়াতে ব্যাবহার করতে পারেন —- ( বিদ্রঃ যদি ও অনেক ভেষজ চিকিৎসক আরও অনেক ভেষজ কে লিউকোরিয়া প্রতিরোধক হিসাবে বর্ণনা করেছেন বা ভাল হয় বলে দাবি করেছেন কিন্তু আন্তর্জাতিক মেডিসিন প্লানেটের   রিসার্চ অনুসারে উপরের ভেষজ ই সবচেয়ে বেশী কার্যকর বলে উল্লখ করা হয়েছে )

 

 

প্রতিকারের জন্য যে কয়েকটি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে গুরুত্ব দেয়া দরকার তা হচ্ছে- ( সংগৃহীত )

leu-4
১. মেয়েদের পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। প্রতিদিন আমিষ জাতীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম, খিচুড়ি, ডাল ও ভিটামিন যুক্ত খাবার যেমন শাকসব্জি, ফলমূল বিশেষ করে টকফল এবং প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবার মানে দামি খাবার নয় বরং সহজ প্রাপ্য ও খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ খাবার।

২. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে নিরাপদ পানি ব্যবহার, মাসিকের সময় পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড়/প্যাড ব্যবহার, প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর অবশ্যই কাপড়/প্যাড পরিবর্তন ও জীবাণুমক্ত করা। মাসিকের পর ব্যবহার্য কাপড় পুনরায় ব্যবহার না করা ভালো তবে করতে হলে তা গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে ভালো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।

৩. সংক্রমণ প্রতিরোধে সহবাসের ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করা ভালো। আজকাল মেয়েদের কনডমও পাওয়া যায়। সহবাসের পর যথাসম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৪. জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরুষদের দায়িত্বশীল হতে হবে। পুরুষরা যদি কনডম ব্যবহার করেন তাহলে নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি/সুঁই ব্যবহার কমে যাবে এবং সাদাস্রাব জনিত সমস্যাও কমে যাবে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি/সুঁই ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

৫. জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি/সুঁই বা এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনকালে একটু বেশি পুষ্টিকর খাবার যেমন- দুধ, দৈ, ছানা, পায়েস, সেমাই ও খিচুড়ি খেতে হবে।

৬. সাদাস্রাবের পরিমাণ, রং, ঘনত্ব ও গন্ধ অস্বাভাবিক মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র যেমন ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্যাটেলাইট ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় এমন সংক্রমণের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী বা যৌনসঙ্গীর একসঙ্গে চিকিৎসা নেয়া দরকার, নতুবা পুনরায় সংক্রমিত হতে পারে।
. সাদাস্রাবের সমস্যা মোটেই বংশগত নয় এবং চিকিৎসা করালে পরিপূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
৮. মেয়েদের নিজেদের শরীরের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখতে হবে। নিজের ভালোমন্দ নিজেকে বুঝতে হবে। তাহলে সুস্থ থাকা অনেকখানি সহজ হবে।

VERSION INFO & CREATED BY DR HELAL KAMALY ( MPH ) HON PHD PUBLIC HEALTH AND MED SCI  
PROF LINDA J. VORVICK, MD, MEDICAL DIRECTOR, MEDEX NORTHWEST DIVISION OF PHYSICIAN ASSISTANT STUDIES, UNIVERSITY OF WASHINGTON, SCHOOL OF MEDICINE; SUSAN STORCK, MD, FACOG, CHIEF, EASTSIDE DEPARTMENT OF OBSTETRICS AND GYNECOLOGY, GROUP HEALTH COOPERATIVE OF PUGET SOUND, BELLEVUE, WASHINGTON; CLINICAL TEACHING FACULTY, DEPARTMENT OF OBSTETRICS AND GYNECOLOGY, UNIVERSITY OF WASHINGTON SCHOOL OF MEDICINE. ALSO REVIEWED BY DAVID ZIEVE, MD, MHA, MEDICAL DIRECTOR, A.D.A.M., INC. Source| helalkamaly Blog