রুপেন্টা
উপাদান: প্রতিটি ট্যাবলেটে আছে রুপাটাডিন ফিউমারেট আইএনএন যা রুপাটাডিন ১০ মিগ্রা এর সমতুল্য।
প্রতি ১০০ মিলি ওরাল সলিউশনে আছে রুপাটাডিন ফিউমারেট আইএনএন যা রুপাটাডিন ১০০ মিগ্রা এর সমতুল্য।
ফার্মাকোলজিঃ
রুপেন্টা একটি দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী ননসিডেটিং এন্টি-এলার্জিক ওষুধ যা হিস্টামিন ঐ১ ও প্লাটিলেট এ্যাকটিভেটিং ফ্যাক্টর রিসেপ্টর উভয়েরই এন্টাগোনিস্ট হিসাবে কাজ করে। প্লাটিলেট এ্যাকটিভেটিং ফ্যাক্টর রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায় এবং ভাস্কুলার পারমিয়াবিলিটি বাড়ায় যা নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। দ্বৈত কার্যপ্রনালীর মাধ্যমে রুপেন্টা অন্য এন্টিহিস্টামিন থেকে ভালো কার্যকারিতা দেখায়। এছাড়াও রুপেন্টা মাস্ট সেলের ডিগ্রানুলেশন প্রতিরোধ, নিউট্রোফিল, ইয়োসিনোফিলের স্থানান্তর প্রতিরোধ এবং সাইটোকাইনের নিঃসরণ প্রতিরোধ; বিশেষভাবে মাস্ট সেল এবং মনোসাইট হতে টিউমার নেকরোসিস ফ্যাক্টর-আলফা এর নিঃসরণ প্রতিরোধ করে। রুপেন্টা H1 রিসেপ্টরের প্রতি আকর্ষন বেশি এবং CNS রিসেপ্টরের প্রতি আকর্ষন কম বা নেই বললেই চলে। রুপেন্টা এর লম্বা পার্শ্ব শিকল এবং লিপিডে সামান্য দ্রবনীয় হওয়ার কারণে ব্লাড ব্রেন বেরিয়ার অতিক্রম করতে পারে না। ফলে রুপেন্টা সেবন করলে ঘুম ঘুম ভাব আসেনা।
নির্দেশনা: রাইনিটিস, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক চুলকানি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া উপশম করে। এছাড়া চোখের চুলকানি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তালুর চুলকানি এবং কাশি নিরাময় করে। রুপেন্টা ক্রনিক ইডিওপ্যাথিক আর্টিকারিয়া উপশম করে।
মাত্রা ও সেবনবিধিঃ
রুপেন্টা ট্যাবলেটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১২ বছরের উর্ধে্ব: ১ টি ট্যাবলেট (১০ মিগ্রা) দিনে ১ টি, খাওয়ার আগে অথবা পরে।
রুপেন্টা ওরাল সলিউশন: ২-১১ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেঃ ১/২ চা চামন (২.৫ মিলি) দৈনিক ১ বার, খাওয়ার আগে অথবা পরে। ১০-২৫ কেজি ওজনের শিশু।
২৫ কেজি বা তার বেশি ওজনের শিশু: ১ চা চামচ (৫ মিলি) দৈনিক ১ বার খাবারের আগে অথবা পরে।
প্রতিনির্দেশনা: রুপেন্টা অথবা এর যেকোন উপাদানের প্রতি সংবেদনশীলতা।
পার্শ প্রতিক্রিয়া: ঝিমুনী, মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, শুষ্কমুখ, অবসাদ এবং দুর্বলতা।
সতর্কতা: যাদের QT ইন্টারভ্যাল বেড়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে রুপেন্টা সেবন করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। যে সকল রোগীর অসংশোধিত হাইপোক্যালামিয়া, নিরবচ্ছিন্ন প্রো-এরিদমিক অবস্থা যেমন, ক্লিনিক্যালি ব্রাডিকার্ডিয়া অথবা একিউট মায়োকার্ডিয়াল ইসকেমিয়া আছে তাদের ক্ষেত্রে রুপেন্টা সেবন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে: প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি বি।গর্ভাবস্থায় নিরাপদ কিনা কিংবা মাতৃদুদ্ধে নি:সৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। ভ্রুণ, শিশু ও মায়ের ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি হলে গর্ভাবস্থায় ও মাতৃদুগ্ধদানকালে রুপেন্টা সেবন করা উচিত।
তবে ক্ষতির চেয়ে উপকারের মাত্রা বেশি হলে ব্যবহার করা যাবে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: ৬৫ বছরের উর্ধ্বে রুপেন্টা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
লিভার ও কিডনি অকার্যরকর রোগীদের ক্ষেত্রে: এ ধরণের রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নির্দেশিত নয়।
ড্রাগ-ইন্টার্যাকশনঃ
কিটোকোনাজল ও ইরাইথ্রোমাইসিনের সাথে রুপেন্টা খেলে সিস্টেমিক এক্সপোজার বৃদ্ধি পায়। এসকল ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে খেতে হবে। অন্য আইসো এনজাইম CYP3A4 ইনহিবিটর এর সাথে সতর্কতার সাথে খেতে হবে। স্ট্যাটিন অথবা সিএনএস ডিপ্রেসেন্ট অথবা এলকোহলের সাথে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
মাত্রাধিক্যঃ
মাত্রাধিক্য ব্যবহারের ফলে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দিনে ১০০ মিগ্রা. করে ৬ দিন পর্যন্ত সহজেই সহনীয়।
সরবরাহ: রুপেন্টা ট্যাবলেট: প্রতিটি বক্স্ ব্লিস্টার স্ট্রিপে ৩*১০ টি ট্যাবলেট আছে।
সলিউশন: প্রতি বোতলে ৫০/৬০/১০০/১৫০ মিলি ওরাল সলিউশন