এসিআই কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারে বিষাক্ত মিথানলের উপস্থিতি থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিথানল মিশ্রিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজার থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, ‘মিথানল দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর কারণে এসিআইকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিথানল দিয়ে বানানো তিনটি ব্যাচের হ্যান্ড স্যানিটাইজার মার্কেট থেকে প্রত্যাহার করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে, গত ৪ অক্টোবর দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাজীপুরে প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। পরে কারখানাটি সিলগালা করে রাখে র‌্যাব। পরীক্ষা করে বিষাক্ত মিথানল পাওয়া যাওয়ায় রবিবার রাতে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এসিআই কোম্পানির ‘স্যাভলন হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে তাতে বিষাক্ত মিথানলের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা হ্যান্ড স্যানিটাইজারে থাকার কথা না।

আরও বলা হয়, এদিকে স্যাভলনের স্যানিটাইজারের গায়ে ‘আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল’ দিয়ে তৈরি লেখা থাকলেও তাতে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের কোনও উপাদান পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে জীবাণুনাশক হিসেবে মানুষ যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে, তাতে জীবাণুমুক্ত হওয়া দূরের কথা, এতে মানুষের শরীরে নানাবিধ ক্ষতি হয়। আর দেশে মিথানল ব্যবহারও সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু এসিআইয়ের কারখানায় বিষাক্ত মিথানল দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি হচ্ছিল, এমন খবরেই র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়েছিল।

এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে www.ousudbarta.com এর আর্টিকল রাইটার মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আমেরিকার ওকলাহোমা রাজ্যে ওপিওয়েডযুক্ত ঔষধে ভোক্তাদের আসক্তি বাড়ায় এতে ভূমিকার জন্য বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যপন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান “জনসন এন্ড জনসন”কে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা জরিমানা করে সেদেশের আদালত। তাছাড়াও কিছুদিন পূর্বে করোনার ভূয়া রিপোর্ট তৈরীর অভিযোগে ও মানব স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে রাখায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদকে আটক ও কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সে হিসেবে এসিআই’র বিরুদ্ধে স্যাভলন হ্যান্ড স্যানিটাইজারে মিথ্যান্যাল ব্যবহারের অভিযোগে মাত্র ১ কোটি টাকা জরিমানা হাস্যকর। সরকারীভাবে নিষিদ্ধ মিথ্যান্যাল মজুদ করার অভিযোগই তো আরো বেশি গুরুতর।