ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে অপুষ্ট টমেটো। খাবার একেবারে অযোগ্য। অথচ এই অপুষ্ট টমেটোগুলোই ফুলে ফেঁপে লাল টকটকে হয়ে উঠছে ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। কিভাবে জানেন?
বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে। মেহেরপুরের গাংনীর ক্রেতারাই খোদ এমন অভিযোগ তুলেছেন। চাষিদের স্বীকারোক্তি, ক্যালসিয়ারম কার্বাইড ও ইথিলিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক দেয়া হয় টমেটোগুলোতে। প্রথমে টমেটোগুলো রোদের মধ্যে রাখা হয়। এরপর কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়। কয়েক ধাপে স্প্রে করার পর খড়-কুটো দিয়ে জাগ দিয়ে রাখতে হয় প্রায় ২ সপ্তাহ। এরপরই অপুষ্ট টমেটোগুলো হয়ে ওঠে লাল টুকটুকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, টমেটোতে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক গুলো এতটাই ক্ষতিকারক যে, এটি শরীরে গেলে ত্বকের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, জরায়ুর ক্যান্সার, লিভার ও কিডনীর সমস্যা একই সাথে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্যামিকেল হচ্ছে, ফরমালিন, ক্যাডমিয়াম,ই-কোলাই, লেড, আর্সেনিক, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, পোড়া মবিল, রং, সোডিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, হাইড্রোজ এবং ডিডিটি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, এ ক্যামিক্যালগুলোর নাম শুনলে আতংকিত হতে হয়। প্রত্যেকটাই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ সমস্ত উপাদানগুলোর কথা বললেন এদের কিছু কিছু আছে, কিছুর সহনীয় মাত্রা আছে, যেগুলো সহনীয় মাত্রায় খাবারে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয় না। কিন্ত এমন অনেকগুলো আছে যেগুলো একেবারেই থাকা উচিত না। তো মোটের উপর আমরা যা বুঝতেছি, এই কেমিক্যাল গুলো আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আসবে। তার মধ্যে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। এর অন্যতম কারণ হলো শিশুর শরীরে তখনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরী হয় না। একারণেই কোমলমতি শিশুদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। তাদের সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শিশুদেরই কিডনীর অসুখ, লিভারের অসুখ, ব্লাডের নানান রকম সমস্যা যেমন ব্লাড ক্যান্সার পর্যন্ত, সাথে এনিমিয়া তো আছেই। এছাড়া শিশুদের বেলায় আরেকটা যেটা ঝুঁকি তা হচ্ছে, তাদের বৃদ্ধিটা ঠিক মতো হয়না। যেটা মানসিক এবং শারিরিক দু’ভাবেই এটা ব্যহত হয়। যার ফলে দেখা যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেও এ সমস্যাগুলো রয়ে যায় এবং গবেষনাতে যেটা দেখা গেছে, শিশুকালে যারা এ ধরণের সমস্যাতে বড় হয়, পরবর্তীতে তাদের নন-কমিউনিকেবল ডিজেজ যেমন হাই ব্লাড প্রেশার, ক্যান্সার, ওবেসিটি ইত্যাদি তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
খাবার কেনার সময় আমরা একটু সচেতনভাবে কেনা উচিত। আমরা যদি রাস্তা থেকে কিনি কিংবা ভ্যান গাড়ি থেকে কিনি, কেনার সময় আমরা যিদি নিজে পরীক্ষা করে কিনি, সেটা কিন্ত আমরা হাত দিয়ে ধরলেই বোঝা যাবে। এটা কি সত্যিকারভাবেই পাকা নাকি ঔষধ দিয়ে পাকানো? সেটা কিন্ত ধরেই বুঝা যায়। অন্যটা হচ্ছে আমরা প্রায়ই দেখি যে, টমেটোর মধ্যে একটা চকচকে ভাব থাকে। সেটা কিন্ত স্বাভাবিক না। চকচকে থাকা উচিত না। তার মানে এটা আন্দাজ করা যায় এখানে কোনোকিছু মেশানো হয়েছে। এতটুকু সাবধানতা আমরা অবলম্বন করতে পারি।