আপনার সন্তানের ঘুম হয়না? তাহলে আজকের লেখাটি শুধুই আপনার জন্য।
ঠিকমতো ঘুম না হওয়া শুধু বড়দের জন্য নয়, বাচ্চাদেরও এমন সমস্যা হতে পারে। যার সমাধান আউলেটস মোজা। এটি শিশুর গোড়ালি থেকে রক্ত চলাচল পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাস ও হার্ট বিটের তথ্য সংগ্রহ করে জানায়, শিশু কতটা বিশ্রাম নিচ্ছে। চাইলে এর সাথে ক্যামেরাও যুক্ত করা যেতে পারে।
একজন নতুন মা জানান, “প্রথম মা হওয়ার পর থেকেই তার উপর সর্বদা নজর রাখি। কিন্ত এখন তাকে বিশ্রাম না করিয়েও আমরা তার উপর নজর রাখতে পারি। এখনও রাতে আমি কয়েকবার লক্ষ্য রাখি যে, সে নিশ্বাস ঠিকমতো নিচ্ছে কিনা ও অন্যসব ঠিক আছে কিনা “
তবে এটা প্রতিদিন চার্জ দিতে হবে এবং কিছু চিন্তার জায়গাও আছে।
নতুন বাবা জানান, “অনেক সময় আপনি হয়তো একটু বেশি বেশি লক্ষ্য রাখবেন কারণ, ফোনেই যখন আছে, একটু দেখে নিই, কি অবস্থা। একবার আমি ঠিকমতো লাগাতে পারিনি, হার্টবিটটা পাচ্ছিলাম না। তখন বিশাল চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।” তাহলে এটার জন্য ২৮০ পাউন্ড খরচ করা কি ঠিক আছে?
“আপনি যদি আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চান, তাহলে এটা ভালো সমাধান।”
যারা নতুন মা হয়েছেন, তারা প্রযুক্তি থেকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারেও সাহায্য পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা এ নিয়ে সমস্যায় আছেন।
ইনফ্যান্ট ফিডিং মিডওয়াইফ বিশেষজ্ঞ মাইলি ইংম্যান বলেন, “আমার মনে হয়, এ সমস্যার বেশিরভাগই হয় দুশ্চিন্তা থেকে। কারণ এক্ষেত্রে খুব বেশি শারীরিক সমস্যা দেখা যায় না। কিন্ত অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বুকের দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত স্ক্যানার কিভাবে কাজ করে? এটি বুকের দুধের গুণাগুণ ও ঘনত্ব পরিমাপ করতে পারে।”
মাইমিল্ক ল্যাবস এর সহ প্রতিষ্ঠাতা শ্যারন হারামাটি এই স্ক্যানারের গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “একজন মা কয়েক ফোঁটা দুধ নিয়ে স্ট্রিপে দিয়ে দেন। এরপর সেটিকে ডিভাইসে যুক্ত করেন। ডিভাইসে বুকের দুধের ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল পরীক্ষা করে এবং সেই তথ্য সরাসরি মায়ের স্মার্টফোনে পাঠিয়ে দেয় “
প্রায় ১ হাজার নমুনা বুকের দুধ থেকে এর এলগরিদম করা হয়েছে। এছাড়া বুকের দুধ বিশেষজ্ঞদের অসংখ্য তথ্য যোগ হয়েছে।
আইবিসিএলসি এর ল্যাকটেশন কনসালটেন্ট মায়া দুবিনস্কি বলেন, “ডিভাইসটি আমার তথ্যকেই সঠিক বলছে। তবে এটি একজন মানুষ কোনো কিছু পাওয়ার আগেই সেটিকে শনাক্ত করবে।”
মায়েরাও দেখতে পারেন তাদের সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা।
একজন ব্যবহারকারী বলেন, “এটি খুবই প্রশান্তি। আপনার এ্যাপে যখন সবকিছু সবুজ আসবে, তারমানে ডাক্তারি দিক থেকেও আপনি ঠিক আছেন। কারণ বেশিরভাগ সময় আমরা ঠিক থাকলেও, মনে হয় যে কোথাও কোনো ঝামেলা আঝে। কিন্ত সেটি আসলে শুধু মাথাতেই। আর এটা জানাবে আসল অবস্থা। “
আরো কিছু ডিভাইস বলে দিতে পারে, আপনার বাচ্চা আসলে কতটুকু বুকের দুধ পাচ্ছে। যেমন স্মার্ট নিপল শিট। এটা মাকে জানান দেয়, তার বুকের দুধ ঠিকমতো যাচ্ছে কিনা।
করোফ্রো এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ড. হেলেন ব্যারি বলেন, “রাশিয়া, ব্রাজিল কিংবা আয়ারল্যান্ডের মায়েরা গড়ে কি পরিমান বুকের দুধ খাওয়াতে পারে? বুকের দুধের কোনো আদর্শ পরিমাপ আছে কি?যেসব দেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি বেশি গুরুত্ব পায়, সেসব দেশের মায়েরা কি বেশি দুধ খাওয়াতে পারে? আমরা আসলে জানিনা।”
এই ডিভাইস আপাতত পরীক্ষামুলক পর্যায়ে আছে। তবে আশা করা হচ্ছে, এই ডিভাইস দিয়ে মায়েদের বিভিন্ন হরমোনাল সমস্যা, ডায়াবেটিস বা মাতৃত্বকালীন সমস্যা নিয়ে আরো তথ্য আমাদের দিতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, “আমরা হয়তো বলতে পারবো যে, হ্যাঁ এ মায়ের এ ধরণের ঝুঁকি রয়েছে বা তার বুকের দুধ ঠিকমতো আসছে না। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করতে পারবো।”
তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। যদি এ তথ্য কোনো মাকে নিশ্চিত করে যে, আপনার বুকের দুধ ঠিক আছে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তাহলে সেটা দারুন ব্যাপার হবে। আমার দুশ্চিন্তা এটা যেন শুধু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেই আসে, কেউ যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করলেও যেন ‍স্বাভাবিক বুকের দুধ খাওয়ানোটা ঠিক থাকে, সেই ভারসাম্যটাও রাখা দরকার।