১% ক্রিম এবং ভ্যাজাইনাল সাপোজিটরী।
ক্লোট্রিমাজল একটি বিস্তৃত বর্ণালীর ছত্রাকনাশক যা ত্বকের উপর বিভিন্ন ডার্মাটোফাইট, ইস্ট, মোল্ড এবং ব্যাকটেরয়েডস সংক্রমন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ক্লোট্রিমাজল কিছু গ্রাম পজেটিভ ব্যকটেরিয়া বিশেষ করে স্টেফাইলোকক্কি এবং ট্রাইকোমোনাস এর উপর কাজ করে। অন্যান্য ইমিডাজোলের মত ইহা ছত্রাকের কোষ প্রাচীরের লিপিডকে বাধা দিয়ে এর ভেদ্যতা পরিবর্তন করে। ছত্রাক রোধের ক্ষেত্রে এর মুল কাজ হচ্ছে আরগোস্টেরল সংশ্লেষন বন্ধ করা কিন্ত উচ্চ মাত্রায় ইহা স্টেরল সংশ্লেষনের সাথে সম্পর্কহীন অতিরিক্ত কার্য পদ্ধতির দ্বারা কোষঝিল্লী নষ্ট করে।
উপাদানঃ
ক্লোট্রিমাজল ক্রিমঃ প্রতি গ্রাম ক্রিমে রয়েছে 10 মিগ্রা. ক্লোট্রিমাজল ইউএসপি।
ক্লোট্রিমাজল ভ্যাজাইনাল সাপোজিটরীঃ প্রতিটি সাপোজিটরীতে আছে ২০০ মিগ্রা. ক্লোট্রিমাজোল বিপি.।
নির্দেশনাঃ
নিম্নলিখিত নির্দেশনাসমূহে ক্লোট্রিমাজল নিশ্চিতভাবে কার্যকরঃ

  1. ডার্মাটোফাইটিস (ট্রাইকোফাইটন প্রজাতি) দ্বারা ‍সৃষ্ট সব ছত্রাকীয় সংক্রমন।
  2. ইস্ট দ্বারা সৃষ্ট সকল ডার্মাটোমাইকোসিস (ক্যানডিডা প্রজাতি)।
  3. মোল্ডস এবং ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট ত্বকীয় রোগ।
  4. ত্বকীয় রোগসমূহের মধ্যে রয়েছে রিংওয়ার্ম (টিনিয়া), অ্যাথলেটসফুট, প্যারানাইসিয়া, পিটাইরিয়াসিস ভারসিকলর, ইরাইথ্রেসমা, ইন্টারট্রিগো, ক্যানডিডা ব্যালানাইটিস।
    ক্লোট্রিমাজল ভ্যাজাইনাল সাপোজিটরীঃ ক্যান্ডিডাল ভ্যাজাইনাইটিসের জন্য নির্দেশিত।
    ব্যবহার মাত্রা ও ব্যবহার বিধিঃ
    ক্রীমঃ ক্রীম দৈনিক ২-৩ বার আক্রান্ত স্থানে পাতলা করে মালিশ করতে হবে। চিকিৎসার সম্পূর্ণ সফলতার জন্য এবং পুনঃসংক্রমন প্রতিহত করার জন্য অসুখের সমস্ত লক্ষন দূর হওয়ার পর আরো ২ সপ্তাহ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া উচিত। পায়ের ছত্রাক সংক্রমনের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থান বিশেষ করে পায়ের আঙ্গুলের মধ্যবর্তী স্থান ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেয়া উচিত।
    সাপোজিটরীঃ
    পর পর তিনদিন (বিশেষ করে রাতে) দৈনিক ১ টি করে সাপোজিটরী ভ্যাজাইনার অভ্যন্তরে প্রয়োগ করতে হবে। দুই হাঁটু ভাঁজ করে চিত হয়ে শুয়ে সাপোজিটরী প্রয়োগ করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার্য।
    গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে ব্যবহারঃ
    ক্লোট্রিমাজোল ত্বকে ও যৌনিপথে ব্যবহারের পর রক্তে খুবই কম পরিমাণে শোষিত হয়, গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ক্লোট্রিমাজোল কোনো খারাপ প্রভাব প্রদর্শন করে না। ক্লোট্রিমাজোল মাতৃদৃগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা এখনও জানা যায়নি। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ক্লোট্রিমাজোল সাপোজিটরী গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
    শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োগঃ
    ক্রীমঃ প্রাপ্ত বয়স্কদের মতোই ব্যবহার করা যাবে।
    সাপোজিটরীঃ শিশুদের ক্ষেত্রে ইহা ব্যবহার করা যাবেনা।
    প্রতিনির্দেশনাঃ যাদের ক্লোট্রিমাজোল এর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা আছে, তাদের জন্য ইহা প্রতিনির্দেশিত।
    সতর্কতাঃ
    ভ্যাজাইনাল সাপোজিটরীর উপাদানসমূহ কনডম ও ডায়াফ্রাম রাবারের জন্য অনুপযোগী। মাসিকের সময় এ চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবেনা। মুখে ও চোখে ব্যবহারের অনুপযোগী।
    পার্শপ্রতিক্রিয়াঃ
    খুবই কম ক্ষেত্রে প্রয়োগ স্থানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে যা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হয়না।
    সরবরাহঃ
    ক্লোট্রিমাজল ক্রিম ৫ গ্রামঃ প্রতি প্যাকে আছে ৫ গ্রাম ক্রীমের একটি টিউব।
    ক্লোট্রিমাজল ক্রিম ১০ গ্রামঃ প্রতি প্যাকে আছে ১০ গ্রাম ক্রীমের একটি টিউব।
    ক্লোট্রিমাজল ভ্যাজাইনাল সাপোজিটরীঃ প্রতি বক্সে 1*3 টি সাপোজিটরী ব্লিস্টার স্ট্রীপে সরবরাহ করা হয়।