“ওজন বেশি,আর নয় চিন্তা! এক ফাইলেই যথেষ্ট” – এমন মুখরোচক খবর প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়। যদিও সেই ঔষধগুলো কখনোই এটি করতে পারে না। সফলতার হার যেখানে খুবই কম।তাহলে কি করবেন? কোথায় যাবেন? কিভাবে ওজন কমাবেন? আমাদের দেশে ফিট মানুষ হওয়াটা যদিও অসম্ভব বস্তু তবুও সবাই চায় হলিউড, বলিউড হিরো কিংবা হিরোইন দের মতো সুঠাম ও আর্কষনীয় ফিগার রাখতে। কিন্তু আপনার ওজন তো বেশি।হাজার চেষ্টা করেছেন কিন্তু এত পরিশ্রমের ভীড়ে ওজনটাই কমলো না।কি করবেন এখন?এর সমাধানে বর্তমানে একটি ডায়েটিং পদ্ধতি বেশ সমাদৃত।মূলত সফলতার হার থেকেই এটি জনপ্রিয়। আর তা হলো – কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট।
মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে আপনি আপনার দৈহিক ওজনের বিরাট এক পরিবর্তন করতে পারবেন কোন প্রকার ঔষধ সেবন ছাড়াই! কিটো ডায়েট আমাদের অনেকের কাছেই সুপরিচিত আবার অনেকের কাছেই নতুন।
তাই আজকে আপনাদের পুরোপুরি এই সম্পর্কে ধারনা দেওয়া যাক।

কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট
এটি সুপার লো-কার্ব ডায়েট। কিটো ডায়েট, কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত ডায়েট হিসাবেও পরিচিত, এরফলে শরীরে উর্জার সৃষ্টির জন্য লিভারে কিটোন উৎপন্ন করা হয়।সাধারণত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বেশি খেলে আপনার ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে যায় অন্যদিকে কিটো ডায়েট যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাটের থেকে উর্জার সৃষ্টি করে তাকে কিটোসিস বলা হয়। এই ডায়েটে প্রায়..

  1. 70 শতাংশ ফ্যাট
  2. 25 শতাংশ প্রোটিন
  3. 5 শতাংশ কার্বোহাইড্রেট

গ্রহন করা হয়। মানে আপনি সারাদিন যতটা খাবার খাবেন তার মধ্যে খাবারের পার্সেন্টেজ এমন হবে। এতে খিদে কমে যায়। ফলে শরীরের সঞ্চিত চর্বি ক্ষয় হয়ে অতিরিক্ত ওজন কমে। দেহে শর্করার পরিমাণ কমায় বলে এই খাদ্য পরিকল্পনা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

আমি কি কিটো ডায়েট করবো

কিটো ডায়েট মূলত নির্ভর করে আপনার BMI (Body Mass Index) এর উপর।
● BMI = (আপনার উচ্চতা,সে.মি)^২ / আপনার ওজন
যদি BMI মান ২৪ এর বেশি হয় তাহলে আপনার মান ভেদে কিটো ডায়েট ফলো করতে হবে।
শিশু কিংবা বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ ব্যক্তি করলে উল্টো ক্ষতির সম্ভাবনা রয়ে যায়।

অনেক কিটোডায়েট এর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত হাইপ্রোটিন ডায়েট এ পদ্ধতিতে খাদ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ চর্বি, ৩৫ শতাংশ প্রোটিন ও ৫ শতাংশ শর্করা থাকে।দেহে শর্করার পরিমাণ কমায় বলে এই খাদ্য পরিকল্পনা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

যেসব খাবার পরিহার করতে হয়

কিটোজেনিক ডায়েটে চিনি এবং চিনি দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। উচ্চ শর্করাজাতীয় খাবার, যেমন ভাত, পাস্তা, নুডলস এবং শর্করাজাতীয় সবজি, যেমন আলু, মিষ্টিকুমড়া, গাজরও খাদ্যতালিকায় থাকা চলবে না।

ডায়েট চার্ট

  1. সকাল – ৬.০০ ঘটিকা
  2. প্রাতঃরাশ, ২ ঘন্টা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ,বুলেট কপি পান করা।
  3. সকাল- ১১.০০ ঘটিকা
  4. মাখন দিয়ে ডিম পোস+ ১ মুঠো বাদাম + হিমালয়ান পিংক লবন দিয়ে ভেজে খাওয়া যেতে পারে।
    বিকল্প : ডিম+টমেটো = অমলেট / গ্রিন চা
  5. দুপুর- ২.০০ ঘটিকা
  6. আপেল সিডার ভিনেগার পান করা( হালকা গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ) / গরম পানি+ লেবুর রস।
  7. ১০-১৫ মিনিট পর
  8. শাকসবজি গুলো পেঁয়াজ,মরিচ যেকোন মসলা দিয়ে ভেজে নেওয়া যেতে পারে+ যেকোন মাছ বা মাংস এক্সট্রা ভার্জিন তেলে অথবা সরিষার তেলে ভাজতে হবে। (প্রচুর পানি পান করতে হবে)
  9. বিকাল – ৫.০০ ঘটিকা
  10. ১ বাটি শসা + ১ কাপ গ্রিন চা + ১ মুঠো বাদাম।
  11. রাত- ৮.০০ ঘটিকা
  12. ২ পিস মুরগীর মাংস অথবা মাছ +শসা কিংবা গাজর ১ টি / সবজি ১ বাটি + ১ পিস মাংস।

এই সমস্ত জিনিস যেকোন সুপার শপে পাওয়া যাবে। এছাড়াও প্রাণিজ আমিষ ও এই আমিষ থেকে তৈরি যেকোনো খাবার, ডিম, মাখন, ক্রিম, পনির, দই, মাছ, শর্করা কম এমন সবজি, যেমন লাউ, ফুলকপি, ব্রকলি, লাল-সবুজ শাক ইত্যাদি। বাদাম ও বিভিন্ন ফলের বীজ। তেল, যেমন অলিভ অয়েল, সূর্যমুখী তেল। ফলের মধ্যে জলপাই, আভোকাডো, স্ট্রবেরি, লেবু খাওয়া যাবে।

সতর্কতা
কিটোজেনিক ডায়েট বেশি দিন টানা করা ঠিক নয়। ৩ মাসের বেশি করা যাবে না। ১ সপ্তাহ করে ২ দিনের বিরতি দিয়ে করা যেতে পারে। এছাড়া প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া রাত ১০ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তে হবে। সুষম খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে সেরা উপায়। অন্য যেকোনো বিশেষ ধরনের খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক- আমিনুল ইসলাম (শরীফ)
২য় সেমিস্টার, ফার্মাসী ডিপার্টমেন্ট
প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।