বর্ণনাঃ
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল ইনহেলেশন এরাসল হলো ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল সালফেটের কম্বিনেশন।
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড একটি এন্টিকোলিনার্জিক ব্রঙ্কোডায়ালেটর এবং সালবিউটামল সালফেট স্বল্পকার্যমেয়াদী বিটা-২ এড্রিনার্জিক ব্রঙ্কোডায়ালেটর। যখন এ দুটোর কম্বিনেশন ব্যবহার করা হয়, ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড, ব্রঙ্কিয়াল মসৃণ মাসেল মাসকারনিক রিসেপ্টরের এসিটাইল কোলিন এর ইন্টার‌্যাকশনে আন্তঃকোষীয় সাইক্লিক গুয়ানোসিন এর যে আধিক্য হয়, ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এই প্রক্রিয়াকে রোধ করে। ক্রনিক অব্সট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসেস (COPD) প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এন্টিকোলিনার্জিক (প্যারা সিমপ্যাথেটিক) এবং সিমপ্যাথোমেটিক, এই দুই ভিন্ন পন্থায় ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল একই সাথে এন্টিকোলিনার্জিক (ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড) এবং বিটা-২ সিমপ্যাথোমিমেটিক (সালবিউটামল সালফেট) এর সম্মেলন ঘটানো হয়েছে যা এর যেকোনো একটি উপাদানের নির্ধারিত মাত্রার কার্যকারিতার চেয়েও অধিক ব্রঙ্কোডাইলেশন ঘটিয়ে রোগীর কল্যান সাধন করে।
উপাদানঃ
প্রতিটি চাপীয় নিঃসরণে রয়েছে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড বিপি ২০ মাইক্রোগ্রাম এবং সালবিউটামল (সালফেট হিসেবে) বিপি ১০০ মাইক্রোগ্রাম।
নির্দেশনাঃ
ক্রনিক অব্সট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজেজ (COPD) এর রোগী যাদের সবসময় ব্রঙ্কোস্পাজম এর লক্ষন বিদ্যমান থাকে এবং যাদের দ্বিতীয় একটি ব্রঙ্কোডায়ালেটর দরকার, তাদের জন্য নিয়মিত এরোসল ব্রঙ্কোডায়ালেটর হিসেবে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল নির্দেশিত।
সেবনমাত্রা ও সেবনবিধিঃ
স্বাভাবিক মাত্রাঃ ২টি ইনহেলেশন দৈনিক ৪ বার। রোগীর প্রয়োজনে অতিরিক্ত ইনহেলেশন নেয়া যেতে পারে। তবে ২৪ ঘন্টায় মোট ১২ টি ইনহেলেশন এর বেশী গ্রহন করা উচিত নয়। প্রথমবার ব্যবহার কিংবা যে ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার বেশি ব্যবহার করা হয়নি সেক্ষেত্রে ৩ বার “টেস্ট স্প্রে” করার নির্দেশনা আছে। ১২ বছরের কম বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে ইহার ব্যবহার নির্দেশিত নয়।
অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবনযোগ্য।
প্রতিনির্দেশনাঃ
যেসকল রোগীর সয়া লেসিথিন বা এই প্রকার খাদ্য (সয়াবিন এবং বাদাম) এর প্রতি অতিসংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল প্রতিনির্দেশিত। ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল এর যেকোনো উপাদান বা এ্যাট্রোপিন অথবা এর থেকে উদ্ভুত যৌগ এর প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের জন্যও প্রতিনির্দেশিত।
সতর্কতাঃ
১. এ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধের ক্ষেত্রে ইহার প্রভাবঃ ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল ইনহেলার এরোসলে আছে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড যা ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, প্রোস্টেটিক হাইপারট্রপি অথবা ব্লাডার নেক অব্সট্রাকশনের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
২. সিমপ্যাথোমিমেটিক ঔষধের ক্ষেত্রে ইহার প্রভাবঃ ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামলে বিদ্যমান সিমপ্যাথোমিমেটিক অ্যামাইন যেমন সালবিউটামল সালফেট কনভালসিভ ডিসঅর্ডার, হাইপার থাইরয়ডিজম, ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস এবং সিমপ্যাথোমিমেটিক অ্যামাইনের প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়াশীল রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
শিশুদের জন্যঃ
শিশুদের ক্ষেত্রে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়।
অন্যান্য ঔষধের সাথে ক্রিয়াঃ
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল ইনহেলার এরোসল COPD প্রতিরোধে অন্যান্য ঔষধ যেমন সিমপ্যাথোমিমেটিক ব্রঙ্কোডায়ালেটর, মিথাইল জেনথিন এবং স্টেরয়েডের সাথে ব্যবহার করা হয়। ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল ইনহেলার এবং অন্যান্য ঔষধ ব্যবহার করে COPD চিকিৎসার ক্ষেত্রে ড্রাগ ইন্টার‌্যাকশনের নির্দিষ্ট কোনো গবেষনা হয়নি। ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইডকে অন্য এন্টিকোলিনার্জিক এবং সিমপ্যাথোমিমেটিক এজেন্টগুলোর সাথে একযোগে ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ ইহা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এবং সালবিউটামল এর মত যেসকল ড্রাগে বিটা এগোনিস্ট আছে সেগুলো নন-পটাশিয়াম স্পেয়ারিং ডাই ইউরেটিকস, মনো এমিন অক্সিডেজ ইনহিবিটরস অথবা ট্রাইসাইক্লিক এ্যান্টিড্রিপ্রেসেন্ট গুলোর সাথে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালেঃ
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইডঃ গর্ভাবস্থা ক্যাটাগরি-বি (গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে ইপ্রাট্রোপিয়াম গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর নয়)।
সালবিউটামলঃ গর্ভাবস্থা ক্যাটাগরি-সি। প্রাণীদের ক্ষেত্রে সালবিউটামলের টেরাটোজেনিক ক্রিয়া লক্ষিত হয়েছে। তারপরও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড ও স্যালবিউটামল ইনহেলারের পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট গবেষনা নেই। গর্ভাবস্থায় ওষুধের প্রয়োগ তখনই বিবেচনা করা উচিত যখন তার সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রুণের উপর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়েও বেশি। ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড ও সালবিউটামল কম্বিনেশনের কোনো অংশ স্তন্যদুগ্ধে বহিঃক্ষরণ হয় কিনা তার কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত গবেষনা নেই। যেহেতু অনেক ঔষুধই স্তন্যদুগ্ধে বহিঃক্ষরণ হয় সেহেতু ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড ও সালবিউটামল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুগ্ধদানকারী মায়েদের সাবধান হওয়া উচিত।
পার্শ প্রতিক্রিয়াঃ
স্যালবিউটামলের উপস্থিতির জন্য সামান্য কাঁপুনী এবং মাথাব্যাথা পরিলক্ষিত হয়। কিন্ত নিয়মিত ব্যবহারে তা প্রশমিত হয়ে যায়। মাংসপেশী সংকোচন, অতিসংবেদনশীল ক্রিয়া যেমন: এনজিওডেমা, আর্টিকেরিয়া, ব্রঙ্কোস্পাজম, হাইপোটেনশন কদাচিৎ পরিলক্ষিত হয়। ইপ্রাট্রোপিয়ামের উপস্থিতির জন্য মাথা ব্যাথা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বুক ব্যাথা, বমি বমি ভাব, ডিজনিয়া, কফ, ফেরিঞ্জাইটিস, সাইনুসাইটিস কদচিৎ লক্ষ্য করা যায়।
মাত্রাধিক্যঃ
মাত্রাধিক্যের প্রভাব প্রাথমিকভাবে সালবিউটামল সালফেটের উপস্থিতির সাথে সম্পর্কিত। মৌখিকবাবে গ্রহন করার পর সঠিকবাবে শোষিত হয় না বিধায় ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড এর মাত্রাধিক্য হওয়ার সম্ভাবন কম। সালবিউটামলের মাত্রাধিক্যতায় এনজাইনাল পেইন, হাইপোটেনশন, হাইপোক্যালেমিয়া এবং ট্যাকিকার্ডিয়া পরিলক্ষিত হয়।
সরবরাহঃ
প্রতি কেনিস্টারে রয়েছে ২০০ টি পরিমাপকৃত মাত্রা-যার প্রতিটিতে রয়েছে ২০ মাইক্রোগ্রাম ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড বিপি এবং ১০০ মাইক্রোগ্রাম সালবিউটামল বিপি।

তাছাড়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোন তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন, “সুরক্ষা”র কর্মীদের সাথে অথবা ফেসবুক থেকে প্রশ্ন করুন ঔষধবার্তা
অথবা ডায়াল করুন ০১৮৩৩৭৭৭৫৩০, ০১৬৮৮৬৯১৭৩৫ নাম্বারে। জরুরী মুহুর্তে যেকোন স্বাস্থ্য সেবা পেতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন Shurokkha এপস টি।
এপস ডাউনলোড করুন এখান থেকে।